সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায়। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন: সংখ্যালঘু অধিকার, প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

গোলটেবিল আলোচনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। 

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা একযোগে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, ভোটাধিকার ও সংসদে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে আগামী নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার বিচার না হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা ভেঙে পড়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও আইনগত কাঠামোর ঘাটতির কারণেই এই নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও সাক্ষী-ভুক্তভোগী সুরক্ষা আইন কার্যকরের দাবি জানান।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরের প্রান্তিক গোষ্ঠী এবং রক্ষণশীল পটভূমির নারীরাও বৈষম্যের শিকার। নির্বাচনি সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং অভিযোগ গ্রহণের হটলাইন ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, সংখ্যালঘুদের নিজস্ব অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ‘অধিকারজোট’ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো যদি সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে স্পষ্ট অঙ্গীকার না করে, তাহলে তাদের ভোট দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, আগের নির্বাচনগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না এবং আগামী নির্বাচন নিয়েও সংশয় রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটাররা ভোট দিলেও বা না দিলেও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন—এ বাস্তবতা বদলাতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি নিকোলাস চাকমা ও ফাল্গুনী ত্রিপুরা আত্মপরিচয়ের সংকট, ভূমি আইন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার অভাবের কথা তুলে ধরেন। হো চি মিন ইসলাম বলেন, হিজড়া ও কুইয়ার সম্প্রদায় রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায় অদৃশ্য থেকে যায়, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

News Courtesy:

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে-এইবেলা নিউজ | সত্যের পথে, সময়ের সাথে